১৬ মে, ২০২৩ ১০:৪৯ এএম

ক্যাডারভুক্তির প্রজ্ঞাপন সংশোধন, হোমিও-ইউনানির ডিগ্রিধারীরা বাদ 

ক্যাডারভুক্তির প্রজ্ঞাপন সংশোধন, হোমিও-ইউনানির ডিগ্রিধারীরা বাদ 
আগের প্রজ্ঞাপনে ৪৫৯ জনকে ক্যাডারভুক্ত করা হয়। ওই তালিকায় বেশ কয়েকজন হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি ডিগ্রিধারীও ছিলেন।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৪৫৯ জনকে ক্যাডারভুক্ত করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়েছেন হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি-আয়ুর্বেদের ডিগ্রিধারীরা।

সোমবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-২ শাখা থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত বিসিএস (স্বাস্থ্য) গঠন ও ক্যাডার বিধিমালা, ১৯৮০ এবং The Bangladesh Civil service Recruitment Rules, 1981 সংশোধন সংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ০৯/০৩/২০২৩ খ্রিঃ তারিখের এস.আর.ও নং-৬৬ আইন/২০২৩ এর আলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন নিম্নবর্ণিত ৩৮৫ জন চিকিৎসক কর্মকর্তাকে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারভুক্ত করা হলো।’

আগের প্রজ্ঞাপনে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারদের তালিকায় বেশ কয়েকজন হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি ডিগ্রিধারীও ছিলেন। 

সেখানে ১ নম্বরে মো. আল-এমরান আলী, ৬ নম্বরে মো. কামাল উদ্দিন, ২২ নম্বরে মনজুরুল হক, ২৩ নম্বরে জেবুন্নেছা, ২৬ নম্বরে রাহেনা আক্তার, ২৭ নম্বরে সৈয়দ মাহবুব আলম, ২৮ নম্বরে মোহাম্মদ আবদুর রহিম ভুঞা, ৩৩ নম্বরে আক্তার জাহান, ৩৪ নম্বরে অসীম কৃষ্ণ চৌধুরী, ৩৯ নম্বরে মো. আবূল কালাম, ৪০ নম্বরে শাহীন আক্তার জাহান ও ৪৫৯ নম্বরে রোকেয়া বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তাঁদের সবার নামের আগে ডা. লেখা ছিল।

তবে ক্যাডারভুক্তির ওই তালিকায় মোট কতজন হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি ডিগ্রিধারী জায়গা পেয়েছিলেন, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত ১০ মে মন্ত্রণালয়ের সেবা বিভাগের পার-২ অধিশাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আলমগীর কবীর স্বাক্ষরিত নোটিসে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত বিসিএস (স্বাস্থ্য) গঠন ও ক্যাডার বিধিমালা, ১৯৮০ এর আলোকে ৪৫৯ জন চিকিৎসক কর্মকর্তাকে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারভুক্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত বিসিএস (স্বাস্থ্য) গঠন ও ক্যাডার বিধিমালা, ১৯৮০ এবং The Bangladesh Civil service Recruitment Rules, 1981 সংশোধন সংক্রান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ০৯/০৩/২০২৩ খ্রিঃ তারিখের এস.আর.ও নং-৬৬ আইন/২০২৩ এর আলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন নিম্নবর্ণিত ৪৫৯ জন চিকিৎসক কর্মকর্তাকে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারভুক্ত করা হলো।’

চিকিৎসকদের ক্ষোভ

স্বাস্থ্য ক্যাডারদের ওই তালিকায় হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি ডিগ্রিধারীরা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এই অন্তর্ভুক্তিকে বেআইনি উল্লেখ করে তাদেরকে বাদ দেওয়ারও দাবি জানান চিকিৎসকরা। ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি হলে স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

বিএমএর প্রতিক্রিয়া

জানতে চাইলে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. এসকে শহীদ উল্লাহ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি-আয়ুর্বেদের কেউ যদি নিজেকে ডাক্তার বলে দাবি করেন, তাহলে তা যৌক্তিক হবে না। কারণ এ ব্যাপারে বিএমডিসির সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে, হাইকোর্টেরও নিষেধাজ্ঞা আছে। বিএমডিসি স্বীকৃত মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারীরাই শুধু চিকিৎসক। বাকিরা চিকিৎসা সহায়ক। এ অবস্থায় যারা হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি-আয়ুর্বেদের ডিগ্রিধারীদের জন্য অন্যায্য সুযোগ সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন, তারা দেশে বিজ্ঞানমনস্ক চিকিৎসা সেবার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে চান। হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি ডিগ্রিধারীদেরকে ক্যাডারভুক্ত করে চক্রটি বিতর্কিত একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চান। এর মাধ্যমে মূলত তারা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করতে চান।’

‘হাইকোর্টের নির্দেশনা অবহেলা করে, অমান্য করে যারা এই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তারা মূলত বাংলাদেশের আইনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল না’, যোগ করেন তিনি।

বিডিএফ’র বক্তব্য 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ডক্টরস’ ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান সমন্বয়ক ডা. নিরুপম দাশ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘যারা নামের আগে চিকিৎসক লিখতে পারবেন না, তারা কীভাবে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারভুক্ত হন? তারা কোন আইনের বলে এ তালিকায় প্রবেশের সুযোগ পান? এটা ভাবাই যায় না। এ অনিয়মে জড়িতদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি ডিগ্রিধারীদের বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দফায় দফায় চেষ্টা করা হলেও ফোনে পাওয়া যায়নি।

বিশৃঙ্খলার শঙ্কা এফডিএসআর’র

এমন পদক্ষেপ স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করেন চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিজের (এফডিএসআর) দপ্তর সম্পাদক ডা. রশিদুল হক।

এটি স্বাস্থ্য সেবায় সর্বনাশ ডেকে আনবে মন্তব্য করে মেডিভয়েসকে তিনি বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক ফাঁক-ফোকর দিয়ে হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি ডিগ্রিধারীদের স্বাস্থ্য ক্যাডারে ঢোকানোর চেষ্টা হলে বিসিএস ক্যাডারের মধ্যে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাঙিক্ষত লক্ষ্য পূরণে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হবে। নীতি-নির্ধারকদের এ ধরনের অনিয়ম এখনই বন্ধ করে দেওয়া উচিত। সংবিধান ও চাকরিবিধিমালার পরিপন্থি কোনো নীতি তারা তৈরি করবেন না। 

এ ধরনের সিদ্ধান্ত কোনো মতেই সমর্থন করেন না বলে জানান ডা. রশিদুল হক।

►সংশোধিত প্রজ্ঞাপন

আগের প্রজ্ঞাপন 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক